টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষোভ: প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ীর ‘চিল টুরিজম’

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।
আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার ভ্রমণ আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘চিল টুরিজম’-কে ঘিরে টুরিস্টদের ভোগান্তি, সেবা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড ও সিলেটগামী একটি ট্যুরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টুরিস্টদের সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে কোনাবাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন নির্ধারিত পয়েন্টে উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্যুরের জন্য কোনো পরিবহন পৌঁছায়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেক টুরিস্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক টুরিস্ট জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নারী, শিশু ও পরিবার নিয়ে আসা অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। কয়েকজন টুরিস্টের অভিযোগ, আয়োজকদের একাধিক মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অসংখ্য মন্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী বিভিন্ন ট্যুরেও অব্যবস্থাপনা, সময়মতো গাড়ি না আসা, টুরিস্টদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুর্বল সমন্বয়ের অভিযোগ উঠে আসে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, অতীতেও নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর যাত্রা শুরু হয়েছে এবং সেবার মান প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না।

অন্যদিকে, ‘চিল টুরিজম’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এম এম আল মামুন অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা করতে হয়নি এবং রাত ১২টার মধ্যেই গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার দাবি, গাড়ি পৌঁছানোর পর টুরিস্টদের যাত্রার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই অনেকে স্থান ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ট্যুরে যেতে আগ্রহী লোকসংখ্যা কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, “অল্প সংখ্যক লোকের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আলাদা গাড়ি পাঠানো সম্ভব ছিল না। সেই কারণেই পরবর্তীতে আর গাড়ি পাঠানো হয়নি।”

তবে এ বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। টুরিস্টদের একাংশের দাবি, যদি পরিবহন সংকট বা অন্য কোনো জটিলতা থেকে থাকে, তাহলে তা সময়মতো সবাইকে জানানো হয়নি কেন? কেন টুরিস্টদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং কেন অভিযোগ অনুযায়ী একাধিক নম্বর বন্ধ ছিল—এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

এদিকে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কোনাবাড়ী থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে উপস্থিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিউটিরত এসআই রেজাউল ইসলাম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক ট্যুর আয়োজনের সংখ্যা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা যায়। ফলে টুরিস্টরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেবাগত অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিবহন সংকটের বাস্তবতা এবং টুরিস্টদের অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভ্রমণসেবার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *