বাঘায় একই পরিবারের ১৩ আসামি কারাগারে

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘায় জমি জবরদখল করে আম পেড়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় ১৪ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলা নং-২২৯সি/২০২৫ (বাঘা) বর্তমানে রাজশাহী জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) আদালতের বিচারক সোহানুর রহমান সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৫ ইং আমবাগান ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা, খাজনা ও নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অবৈধ দখলের মামলায় আসামিরা আপোষের শর্তে জামিন লাভ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আপোষের শর্ত বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে শুনানি শেষে বিচারক ১৪ আসামির মধ্যে ১৩ জনের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী মো. সাজ্জাদ হোসেন-এর পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সবুর খান। তিনি বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক আইনগত ধারা ও তথ্য – উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তার সুসংগঠিত ও যুক্তি  নির্ভর উপস্থাপনা আদালতের শুনানিকে ফলপ্রসূ করতে সহয়ক ভূমিকা রাখে।  শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— মো. কাবিল (৩৪), মো. নূর ইসলাম (৪৮), মো. মুক্তার (৩৮), মো. মান্নান (৪৮), মো. আনারুল, মো. সাবুল (৩২), মো. আবুল (৩০), মো. শফিকুল (৪২), মো. হাবিল (২৮), মো. লালচাঁন (২২), মো. মানিক (২০), মো. তফিকুল (২১) এবং মো. বাবুল (৩৭)।

মামলার অপর আসামি আয়ুব আলী-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় বাঘা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট জমিটি দীর্ঘদিন ধরে মামলার বাদী মো. সাজ্জাদ হোসেনের ভোগদখলে রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই বিবাদীপক্ষ জমিটির মালিকানা দাবি করে এবং সেখানে থাকা আমগাছ থেকে আম পেড়ে চুরিকরে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিশে বিবাদীপক্ষ জমির মালিকানার পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানান।
স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় বাদী মো. সাজ্জাদ হোসেন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। ফলে পরবর্তী শুনানির দিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও স্থানীয়দের নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *