রাজশাহীতে শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে ‘সুস্থ শিশু প্রতিযোগিতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী:

শিশুর সুস্থ হয়ে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ওজন পর্যবেক্ষণ, টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা ও অভিভাবকের সচেতনতা জরুরি। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুস্থ শিশু প্রতিযোগিতা’ (Healthy Baby Competition)।
পাঁচ বছরের নিচের শিশু ও তাদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন করা হয়। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় নগরের সিটি চার্চ হলরুমে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম। তিনি বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জন্মের পর থেকেই পুষ্টি, টিকাদান ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং এরপর বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের আয়োজন অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠায় ভূমিকা রাখবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহীর প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি বলেন, একটি শিশুর সুস্থতা শুধু পরিবারের বিষয় নয়, এর সঙ্গে সমাজ দেশ জাতির ভবিষ্যৎও জড়িত। শিশুর সঠিক পুষ্টি ও পরিচর্যার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুর স্বুরক্ষা ও স্বুস্থ ভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মা- বাবার দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড ভিশনের এ ধরনের আয়োজন পরিবারে সচেতনতা বাড়াবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম বলেন, শিশুর সুস্থতার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। শিশুর যত্নে মায়ের জ্ঞান ও পরিবারের সচেতনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অভিভাবকদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নিলু বেগম। তিনি বলেন, শিশুর বয়স অনুযায়ী ওজন ও শারীরিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে জিএমপি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ। বুকের দুধ, বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার, টিকাদান ও পরিচ্ছন্নতা শিশুর সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এসব বিষয়ে মায়ের জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের সক্ষমতাও প্রতিযোগিতায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতায় মোট ৮ হাজার শিশু অংশ নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ শিশুকে বাছাই করা হয়। পরে ১৮০ শিশুকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জনকে বিশেষ এবং ১৬২ জনকে সাধারণ পুরস্কার দেওয়া হয়।
শিশু নির্বাচনে জিএমপি কার্ড, টানা তিন মাস ওজন বৃদ্ধি, বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ইপিআই কার্ড, বুকের দুধ খাওয়ানো, বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার, হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানি এবং শিশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার স্থান সম্পর্কে মায়ের জ্ঞান বিবেচনা করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কাশিয়াডাঙ্গার শিশু সায়ানের মা স্বপ্না খাতুন বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশুর পুষ্টি ও পরিচর্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনেছেন। এখন তিনি শিশুর খাবার ও ওজনের বিষয়ে আরও সচেতন। শিশুর পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজর রাখবেন।
মতিহারের শিশু রাফার মা সুপ্তা আক্তার বলেন, শিশুকে শুধু পেট ভরে খাওয়ালেই হবে না, বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জিএমপি কার্ড ও টিকাদান সম্পর্কে আরও জেনেছেন। এ ধরনের আয়োজন অভিভাবকদের সচেতন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *