জাল ট্রেড লাইসেন্সে সার ডিলার নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষের

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, সন্দেহজনক কাগজপত্র এবং সুপারিশ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

এবার এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১৬ নম্বর সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের ‘মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী আল ইমরান। অভিযোগে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা, ট্রেড লাইসেন্স, গুদামের অবস্থান এবং সুপারিশ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আল ইমরান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় একজন প্রার্থীকে জেলা কমিটির সুপারিশক্রমে প্রথম স্থানে মনোনীত করা হয়েছে। তবে ওই প্রার্থীর ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা এবং নির্ধারিত স্থানে গুদাম থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নামে ১৬ নম্বর সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নির্ধারিত স্থানে গুদাম থাকার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সুপারিশ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে সুপারিশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এবং কমিটির অন্য সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি।
এছাড়া আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণের তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারী আল ইমরান সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ট্রেড লাইসেন্স, গুদামের অবস্থান, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, সুপারিশ প্রক্রিয়ার কার্যবিবরণী এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আগের অভিযোগেও বিতর্ক
এর আগে বাগমারায় আতিয়ার ট্রেডার্সের মালিক আজিজুল ইসলামের সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় কৃষকদেরঅভিযোগ, নিজস্ব গুদাম না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন। সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নামে ব্যবহৃত ট্রেড লাইসেন্সের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল হক দাবি করেছেন, আতিয়ার ট্রেডার্সের নামে ব্যবহৃত ট্রেড লাইসেন্সটি তাঁর পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সটি জাল। এছাড়া আজিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৎকালীন এমপি আবুল কালাম আজাদের হজে গিয়েছিল বিভিন্ন আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে এবং পাঁচ আগস্ট এর দিন ছাত্র জনতার উপর হামলার সময় সে আজাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, আতিয়ার ট্রেডার্সের মালিক আজিজুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *