আসগর আলী সাগরঃ রাজধানী ঢাকায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে রায়েরবাজারে প্রায় ৩২৬টি এবং জুরাইনে ৭৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫০টি করে বেওয়ারিশ মরদেহের শেষ ঠিকানা হয়েছে কবরস্থান।আরও উদ্বেগের বিষয়, বেওয়ারিশ মরদেহের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই পুরুষ। তাঁদের একটি বড় অংশ তরুণ ও মধ্যবয়সী।
উদ্ধারের সময় পরিচয় না মিললে মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে নথিভুক্ত হয়।এরপর পুলিশ পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরও পরিচয় শনাক্ত না হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন বা সৎকার করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়-এই ৪০০ মানুষ কারা ছিলেন? কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হলো? তাঁদের মধ্যে কতজনের মৃত্যু স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত, আর কতজনের মৃত্যু অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত,সেটি কতটা নিশ্চিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে?
বিশেষ করে মরদেহ পচে গেলে আঙুলের ছাপসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় পচনের কারণে সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে পারেনি বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ডিজিটাল পরিচয়ের এই যুগে রাজধানীর বুকে একের পর এক মানুষ পরিচয়হীন হয়ে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাই প্রশ্ন উঠছে,তাঁদের পরিচয় খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কতটা কার্যকর এবং প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে?
