পদ্মার চরে বন্যার পানি, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা

আবু সাঈদ, বাঘা (রাজশাহী)

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষ। পানি আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে ঘরবাড়ি ভেঙে প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিভিন্ন চর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার সময় এসব মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে নদীর কাছাকাছি এবং নিচু জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার আগেভাগেই ঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি ১০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় এ সহায়তা খুবই সীমিত। তাদের দাবি, চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দী থাকলেও সরকারি সহায়তা পেয়েছেন মাত্র ১০০ পরিবার। ফলে অধিকাংশ দুর্গত পরিবার এখনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত।

স্থানীয় বিএনপি নেতা জগলু শিকদার বলেন, পদ্মার চরাঞ্চলে পানি বাড়ায় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত আরও ব্যাপক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে মোট ১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল দুই দিন আগে বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী গ্রামগুলোর পরিবারসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছেও পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। বন্যা ও নদীভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *