
রাজশাহী: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তা মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহনে সহিংসতাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অঢেল সম্পদের মালিক হলেও এখন পর্যন্ত তার আয়ের উৎস নিয়ে কোনো কার্যকর তদন্ত কিংবা অর্থপাচার (মানিলন্ডারিং) আইনে মামলা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর তথ্য ও প্রকাশিত সংবাদসূত্রে জানা যায়, মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। শুধু তিনিই নন, তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদকের মামলা। স্বজনদের কাজে লাগিয়ে তিনি গোপনে মাদকের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, অতীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুক্তা। তবে বিপুল ক্ষমতার জোরে বর্তমানে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ও চাঁদাবাজির অর্থ দিয়ে চারঘাট এলাকায় অন্তত ১০টি পুকুরসহ কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন মুক্তা। এসব অবৈধ সম্পদের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করে তা বাজেয়াপ্ত করা এবং মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতেন মুক্তা। তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক জঘন্য নির্যাতনের ঘটনার মামলাতেও মুক্তা মেম্বার অন্যতম আসামি ছিলেন।
বর্তমানে মুক্তারপুর, চকমুক্তারপুর ও ইউসুবপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এখনো মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মুক্তা মেম্বারের সম্পদের উৎস যাচাই ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
(উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মুক্তার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।)
