
বাগমারায় ভুয়া আত্মীয় সেজে সাংবাদিকের বাড়িতে সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি, প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় এক বছরের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী আবদুল আলিম বাগমারা উপজেলার এক সাংবাদিকের বাড়িতে যান। তারা নিজেদের সাংবাদিকের প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তা ভাইয়ের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে এক রাতের জন্য থাকার অনুরোধ জানান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় দেন।
পরদিন সকালে তারা বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী রাহামা বিবি ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তিনি দেখতে পান, তাঁর এবং কলেজপড়ুয়া মেয়ের ব্যবহারের প্রায় সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়ে গেছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) এবং ইয়াসমিনের বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)।
ভুক্তভোগী রাহামা বিবি জানান, তাঁর প্রয়াত স্বামীর পেনশনের টাকায় মেয়ের জন্য তৈরি করা স্বর্ণালঙ্কারগুলো হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত চুরি হওয়া গয়নাগুলো উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া আত্মীয় পরিচয়ে মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। তাদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ নিয়ে এসেছেন।
তিনি আরও জানান, চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পাশাপাশি প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে রোববার (২ আগস্ট) গ্রেপ্তার তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
