
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের আলাইপুর (বাসাবাড়ি) গ্রামে প্রৈত্রিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আলাইপুর (বাসাবাড়ি) গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর (বাসাবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা, প্রথম পক্ষের খালেক মন্ডলের ছেলে সাইদুর মন্ডল (৪৫), তার স্ত্রী বিজলী বেগম (৪০), মৃত খালেক মন্ডলের স্ত্রী মোসাঃ হাওয়া বেগম (৬০) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর দ্বিতীয় পক্ষের মৃত ইউনুস মন্ডলের ছেলে বাবুল মন্ডল (৪৫), ইমরান মন্ডল (৫০), শাবুল মন্ডল (৩৫), ইমরান মন্ডলের ছেলে শাহিদ মন্ডল (২০), ইমরান মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪৫), বাবুল মন্ডলের স্ত্রী চায়না বেগম (৪০) ও শাবুল মন্ডলের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩৫)সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের স্বজনরা দ্রুত বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম পক্ষের আফিদুল মন্ডল (৩৫) হাসপাতালের গেটের সামনে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাকে আবারও মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তার ডান চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে।
চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, সাইদুর মন্ডলের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। একইভাবে বিজলী বেগমের মাথায়ও গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া হাওয়া বেগম ও অফিদুল মন্ডলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সেরাজুল হক বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটেছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
