অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন, আব্দুস সামাদের পক্ষে শিক্ষকদের ভিন্নমত

 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর অপসারণ ও পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

অভিযোগকারী হিসেবে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রান্ত সরকার দাবি করে, প্রায় এক মাস আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ তাঁকে তিন থেকে চারবার কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। প্রান্ত সরকার মনিগ্রাম মাদরাসা মোড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা শ্রী অজিত সরকার এবং মা শ্রীমতী শেষমা সরকার।

তবে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। তাঁদের দাবি, আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শিক্ষক হিসেবে তাঁর আচরণ ও আন্তরিকতায় সহকর্মীরা সন্তুষ্ট। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগে কখনো শুনিনি। বিষয়টি আমরা নিজেরাও জানতে পারিনি।”

শিক্ষকদের কেউ কেউ আন্দোলনটির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে শুধু আন্দোলনের ভিত্তিতে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। কে বা কারা করছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হোক। এতে আমার সম্মান নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে কোনো ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *