চাকরির প্রলোভনে ফাঁকা চেক-স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগ, কারারক্ষীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ

চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাক্ষর করা খালি চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প নেওয়ার পর সেগুলো ব্যবহার করে হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা।

বুধবার রাজশাহীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাঘমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি এলাকার বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী (নম্বর-৩২৯৩৩) মো. জহুরুল ইসলাম চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই সেট ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং ১২টি স্বাক্ষর করা খালি চেক নিয়েছেন।

গোলাম মোস্তফার ভাষ্য, চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে, নগদ অর্থ এবং স্বজনদের সহযোগিতায় কয়েক লাখ টাকা দেন। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাকে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি প্রতারণার অংশ হতে পারে। এরপর তার কাছে আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বাক্ষর করা খালি চেক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি ও তার পরিবার হয়রানি, সামাজিক চাপ এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “চাকরির আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প অপব্যবহার করে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কারারক্ষী মো. জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না। অভিযোগকারী চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *