
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটির বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নের বরুনাছড়ি, ইসলামপুর এলাকায় গৃহবধূ আয়শা বেগম (৪৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাতিজা ও প্রতিবেশীসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো নিহতের আপন ভাতিজা মো. সোহাগ (১৭) পিতা-ফজর আলী এবং প্রতিবেশী ওমর আলী (১৯), পিতা-মোজাম্মেল,উভয় ঠিকানা -৯ নং ওয়ার্ড বরুনাছড়ি (ইসলামপুর),থানা-বরকল, জেলা- রাঙ্গামাটি
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন২০২৬ সকাল ১০টা ৩০ ঘটিকায় রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব,পিপি এম এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন,গত ২১ জুন সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে হত্যার পর লুট করা ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইট, একটি মাতুলসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘরে নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি আগে থেকেই জানত নিহতের ভাতিজা সোহাগ। সেই টাকার লোভে সহযোগী প্রতিবেশী মো ওমর আলীকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আয়শা বেগমকে হত্যা করে তারা। হত্যার পর ঘরের আলমারির ভেঙ্গে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো ইকবাল হোসেন,বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম,মিডিয়া ইনচর্জ এইচ এম মাহমুদ, মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় আয়শা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তার স্বামী রফিকুল ইসলাম ও সন্তানরা পারিবারিক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে আয়শা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং ঘরে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।