এম ইসলাম দিলদার, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ১১টি কলেজের মধ্যে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজ।
প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ বছর কলেজটি থেকে দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। উপজেলার অন্যান্য কলেজের তুলনায় এগিয়ে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির এ ফলাফল স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ১৭৬ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৭০ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৭৭ জন। সে হিসাবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে মানবিক বিভাগে ১২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ এবং ৬৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ এবং ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগ থেকেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্যে অসংগতি থাকায় এ বিভাগের সঠিক ফলাফল নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপজেলার ১১টি কলেজের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায়, মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজ ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে মিরগঞ্জ কলেজ, যার পাসের হার ৩৯ দশমিক ২২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাউসা কলেজ, পাসের হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এ ছাড়া আলহাজ এরশাদ আলী মহিলা কলেজ ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে চতুর্থ, শাহদৌলা সরকারি কলেজ ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম, আবদুল গণি কলেজ ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ নিয়ে ষষ্ঠ, দীঘা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ নিয়ে সপ্তম, মণিগ্রাম আদর্শ কলেজ ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ নিয়ে অষ্টম, কেশবপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০ শতাংশ নিয়ে নবম, আরানী কলেজ ১৬ দশমিক ০৯ শতাংশ নিয়ে দশম এবং শরিফাবাদ কলেজ ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে একাদশ স্থানে রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে উপজেলার অধিকাংশ কলেজের পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে থাকলেও মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজ ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তবে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ, পাঠদানের মানোন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. নছিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের কলেজ উপজেলা পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ সাফল্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আগামী দিনেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাব। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতিও আমার বিশেষ অনুরোধ, তাঁরা যেন তাঁদের মেয়েদের নিয়মিত কলেজে পাঠান এবং পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করেন। প্রতিটি ছাত্রী যেন কলেজমুখী হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফলে এ ব্যবধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান কার্যক্রম ও ফলাফল উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
