
রাজশাহীতে স্ত্রীর দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি, সহায়তা করেন স্বামী:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পরিচয়ে এক তরুণীর বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগ উঠেছে। সরাসরি ও অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন থেকে দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি চালিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণী। আর এ কাজে সহায়তা করেন তার স্বামী। শুধু দেহ ব্যবসায় নয় প্রতারণার অভিযোগে দীর্ঘ দিন কারাবন্দী ছিলেন সেই তরুণী ও তার স্বামী।
অভিযুক্ত নূরে জান্নাত নিতু (২৩) রাজশাহীর উদয়ন কলেজ অফ বায়োসায়েন্স এন্ড টেকনোলজির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার স্বামী শেখ মারুফ আহমেদ (২৩) একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একই বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থী। শেখ মারুফের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার মধ্য রাস্তা এলাকায়। তার পিতা মাহাতাব উদ্দিন শেখ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে কনস্টেবল পদে কর্মরত। বর্তমানে এই দম্পতি রাজশাহী শহরের বোয়ালিয়া থানার মোন্নাফের মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
অসুন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত নূরে জান্নাত নিতু ” সোভিয়া কাম সার্ভিস ” নামে অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে পর্ণগ্রাফির সাথে জড়িত। সোভিয়া কাম সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন পুরুষের সাথে ভিডিও কলে টাকার বিনিময়ে পর্ণগ্রাফি করে৷ এজন্য মিনিট প্রতি টাকা নেন তিনি। অভিযোগ এ কাজে সহযোগিতা করেন তার স্বামী শেখ মারুফ আহমেদ।
এছাড়া বিভিন্ন পুরুষের সাথে টাকার বিনিময়েও দেহ ব্যবসায় জড়িত তিনি। রাজশাহী পবা উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির সাথে দেহ ব্যবসা ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন তরুণী। এই ব্যক্তির অভিযোগ তার কাছ থেকে প্রতারণা ও ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক টাকা। তবে সামাজিক অবস্থানের কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে চান না।
অভিযুক্ত তরুণী নূরে জান্নাত নিতু নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে এসব প্রতারণা , দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি করে যাচ্ছেন। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে যোগাযোগ করলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে জানানো হয় এই নামে তাদের কোন ছাত্রী নেই। এছাড়া এই তরুণী নিজেকে মডেল ও ব্রান্ড প্রমোটার হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকে। অবশ্য এসবই তার প্রতারবার কৌশল।
অসুন্ধানে আরো জানা যায়, এই তরুণী প্রথম স্বামী তার অনৈতিক কাজের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। তার প্রথম স্বামীর অভিযোগ নূরে জান্নাত নিতু লুকিয়ে অনলাইনে পর্ণগ্রাফি ও দেহ ব্যবসা করত। এসব নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে সে শেখ মারুফ আহমেদকে দ্বিতীয় বিয়ে করে তারা দুজন মিলে অনলাইন ও অফ লাইনে দেহ ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফি চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু দেহ ব্যবসা ও পর্ণগ্রাফিই নয় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন তারা। এক ভুক্তোগীর থেকে রাজশাহী মেট্রো নামের রেস্টুরেন্টে বিনিয়োগের ১৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়েরের পর গত ২৮ এপ্রিল অভিযুক্ত নূরে জান্নাত নিতু (২৩) ও শেখ মারুফ আহমেদ (২৩) আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়েছিল পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি অত্যাধুনিক লেন্স সহ DSLR ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছিল।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নুরে জন্নাত নিতু কথা বলতে রাজি হন নি। তাকে ফোন দিলে সামনাসামনি কথা বলার জন্য যেতে বলেন। তবে পরবর্তীতে আর ফোন ধরেন নি।
এবিষয়ে নুরে জান্নাত নিতুর ২য় স্বামী শেখ মারুফ আহমেদ কে ফোন দেয়া হলেও সাংবাদিক পরিচয় শুনেই ফোন কেটে দেন। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।