বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দুই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ফয়েজ উদ্দিনের এতিম তিন সন্তানকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জন্মগতভাবে বাঁকা হাত ও হাতে গুরুতর ক্ষত নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ১৮ মাস বয়সী শিশু সাফিয়ার চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বাউসা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিনের পরিবারের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন শামীম সরকার। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকা ফয়েজ উদ্দিন সম্প্রতি সেখানে মারা যান। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী নেই। তার তিন সন্তানই এখন এতিম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্বজনরা। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফয়েজ উদ্দিন। তবে শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হয়নি তার।
ফয়েজ উদ্দিনের ভাই বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ ভালো করার আশায় তার ভাই বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ অবস্থায় শামীম সরকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় শামীম সরকার ফয়েজ উদ্দিনের দুই ছেলেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন এবং অর্থের অভাবে তাদের শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাউসা ঠাকুরপাড়া গ্রামের শাকিলের ১৮ মাস বয়সী মেয়ে সাফিয়ার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন শামীম সরকার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাফিয়ার একটি হাত জন্ম থেকেই বাঁকা। এর মধ্যে ওই হাতে বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সাফিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা পেয়ে পরিবারটি শামীম সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
শামীম সরকার বলেন, ‘ফয়েজ উদ্দিনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তার স্ত্রী নেই, তিন সন্তানই এখন এতিম। অন্যদিকে ছোট্ট সাফিয়া জন্মগতভাবে শারীরিক সমস্যায় ভুগছে এবং বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। মানবিক দিক বিবেচনা করে সামর্থ্য অনুযায়ী দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফয়েজ উদ্দিনের দুই ছেলের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আমি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এসব অসহায় পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
ফয়েজ উদ্দিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
