বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে চিহ্নিত আড়ানী রেলব্রিজের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে পুলিশের বার্ষিক পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে রেলব্রিজটি পরিদর্শন করে এর নিরাপত্তা, সুরক্ষা কার্যক্রম ও বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) মো. খালেদ হোসেন, আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তোজাম্মেল হক, আড়ানী ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. মহিদুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাশিদুল ইসলাম রাসু, যুবদল নেতা রকি আহম্মেদ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শনকালে পুলিশ কর্মকর্তারা রেলব্রিজটির কৌশলগত গুরুত্ব, বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক সুরক্ষা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তোজাম্মেল হক রেলব্রিজটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ রেলব্রিজের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি প্রয়োজন। স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি রেলওয়ের সম্পদ, যাত্রীসাধারণ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আড়ানী রেলব্রিজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই)। এ ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও কোনো ঘাটতি বা সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সব সময় সচেতন রয়েছে।
উল্লেখ্য, আড়ানী রেলব্রিজ বাঘা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। রেল যোগাযোগ সচল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সেতুটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
