রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার কোট মোল্লাপাড়া এলাকার প্রধান সড়কের সরকারি জায়গা আবারও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া অবৈধ স্থাপনার জায়গায় এবার “পদ্মা টার্ফ অ্যান্ড স্পোর্টস জোন” নামে ‘শুভ উদ্বোধন’-এর ব্যানার টাঙিয়ে পুনরায় নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনের প্রস্তুতি নয়, বরং সরকারি সড়কের জায়গা পুনরায় দখলের সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে টাঙানো বড় আকারের ব্যানারে ‘শুভ উদ্বোধন’ লিখে ফুটবল টার্ফ, রেস্টুরেন্ট, জুস বার, কিডস জোন, লাইভ কিচেন (BBQ) ও পার্কিং সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যানারে ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে— লিলি হল মোড়, র্যাব অফিসের বিপরীত পাশে, কাশিয়াডাঙ্গা। স্থানীয়দের ভাষ্য, যে জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সড়কের অংশ হিসেবে পরিচিত, সেখানে এমন প্রকাশ্য উদ্বোধনী প্রচারণা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মহানগর আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়কের ধারের সরকারি জায়গা দখল করে সেখানে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই স্থাপনা ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করা হলেও ক্ষমতার প্রভাব, ভয়ভীতি এবং প্রশাসনের নীরবতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে দীর্ঘদিন পর সড়কের জায়গা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় এবং স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বেন্টুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত পারভেজের তত্ত্বাবধানে আবারও ওই জায়গায় খুঁটি পোঁতা, নির্মাণসামগ্রী ফেলা এবং অস্থায়ী কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে। রাতের আঁধারে ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পুরো মোল্লাপাড়ায় নতুন করে উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতার দাপটে রাস্তার জায়গা দখল করে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম জায়গাটি চিরতরে জনগণের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু আবারও একই চক্র পুরোনো কায়দায় ফিরে আসছে। এবার আর এই অবৈধ দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না।”
ঘটনাস্থলে কাজের দায়িত্বে থাকা সেলিম বলেন, “আমি শুধু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছি। জায়গাটি পারভেজ ভাই ভাড়া নিয়েছেন। আমি তাদের পক্ষ থেকে কাজ করছি।”
তবে পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি এটি সরকারি সড়কের জায়গা হয়, তাহলে কীভাবে সেটি ভাড়া বা লিজ দেওয়া হলো? আর যদি বৈধ লিজ থেকেও থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের নথি কোথায়—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সড়কের জায়গা দখল শুধু বেআইনি নয়, এটি নগরীর স্বাভাবিক চলাচল, জননিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের জন্য বড় হুমকি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
এ ঘটনায় জমির মালিকানা, লিজের বৈধতা এবং নির্মাণকাজের অনুমোদন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সড়ক দখলের এই অপচেষ্টা স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।
