নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের কোনো ব্যবহার থাকবে না বলে জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর কেশরহাটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেশরহাট পৌরসভা শাখা আয়োজিত দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তিনি এই দলকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে এমপি মিলন বলেন, “আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ বা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে। তবে স্থানীয়ভাবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকেই বিজয়ী করতে হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ যদি তাদের ভোটে স্থানীয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচিত করে, তবে এলাকার উন্নয়ন আরও সহজ হবে। এ সময় তিনি কেশরহাটকে একটি ‘আধুনিক পৌরসভা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, আধুনিক পৌরসভার রূপকার হতে হলে দলের নির্দেশিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের বিজয়ী করতে হবে।
উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে সংসদ সদস্য মিলন আরও বলেন, “আমাদের উন্নয়ন শুধু ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গুণগত মানোন্নয়ন হবে। আমরা জ্ঞানভিত্তিক ও চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।”
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, খুব শিগগিরই এলাকার মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এছাড়া স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ এলাকার যাবতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করারও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এমপি মিলন।
এর আগে কেশরহাট বাজারে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোসহ জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলাউদ্দিন আলোর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য আবু হেনা কামরুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদের ও কেশরহাট পৌর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান।
রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সেলিম রেজা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান লিটন।
কেশরহাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল আক্তার, মাহবুব আলম বুলবুল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান আলী।
কেশরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহীন আলম ও সদস্য সচিব রেজাউল করিম রেজা।
কেশরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বাচ্চু।
জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম আলী মীর।
মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল, শাকিবুল হাসান লিটন ও মোহাম্মদ আলী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
