তানোরে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে সফল ব্যবসায়ী প্রতিবন্ধী নাজিবুর খুঁজছেন জীবনসঙ্গী

 

 

সাইদ সাজু, তানোর থেকে : ​

 

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের শরীরকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্নকে দমিয়ে রাখা অসম্ভব। এই সত্যেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাজশাহীর তানোর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (২৬)। জন্ম গতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নাজিবুরের পুরো জীবনটাই কাটে বিছানায় শুয়ে। কিন্তু এই কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে, নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে তিনি আজ একজন সফল ব্যবসায়ী। গত ১০ বছর ধরে নিজের গ্রামে মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জ ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করে তিনি এখন স্বাবলম্বী।

​তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও, চার দেয়ালের মাঝে দিন কাটানো তানোর উপজেলার কলমা ইউপির রামনাথপুরের আবুল কালামের পুত্র সাবিনা টেলিকমের স্বত্বাধিকারী (মালিক) নাজিবুরের ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে এক গভীর শূন্যতা। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি একজন জীবন সঙ্গিনীর অভাব অনুভব করছেন। আর এই একাকীত্ব ঘোচাতে তিনি নিয়েছেন এক অনন্য ও মহৎ উদ্যোগ।

​এক মানবিক বিয়ের স্বপ্ন, ​নাজিবুর কেবল নিজের জন্য সঙ্গী খুঁজছেন না, বরং তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এক গভীর মানবিক আবেদন। তিনি কোনো ধনী বা রূপবতী পাত্রী খুঁজছেন না। তার চাওয়া এমন একজন জীবন সঙ্গিনী, যিনি অত্যন্ত গরিব, অসহায় বা এতিম। অভাবের তাড়নায় যে পরিবারের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না অথবা যে নারী নিজে কাজ বা ভিক্ষা করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন, নাজিবুর তাদেরই একজনকে বেছে নিতে চান।

​নাজিবুর বলেন, আমি একটি বিপদগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিয়ের জন্য পাত্রী পক্ষকে কোনো যৌতুক দিতে হবে না, এমনকি বিয়ের কোনো খরচও তাদের বহন করতে হবে না। সমস্ত দায়িত্ব আমার। দেখতে কেমন, তা আমার কাছে মূখ্য নয়, আমার শুধু প্রয়োজন একজন ভালো মনের ও ভালো চরিত্রের জীবন সঙ্গিনী। আমি তাকে আমার ঘরে রানীর মতো সম্মানে আগলে রাখবো।

​বর্তমান সমাজে যেখানে যৌতুক ও লোভের কারণে অনেক অসহায় মেয়ের বিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়, সেখানে নাজিবুরের এই সিদ্ধান্ত এক বিশাল সামাজিক বার্তা প্রদান করছে। এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে সমাজের অবহেলিত একজন মানুষের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ​নাজিবুর তার এই মহৎ উদ্দেশ্য পূরণে সাংবাদিক এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি জানান, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা নওগাঁ জেলার মধ্যে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী কোনো সৎ ও ধৈর্যশীল পাত্রীর সন্ধান থাকলে যেন তাকে জানানো হয়।

​এই মানবিক বিয়েটি সম্পন্ন করতে যিনি বা যারা সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন, নাজিবুরের পক্ষ থেকে তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের নাজিবুরের এই সংগ্রামী জীবন এবং স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *