
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শহীদ পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে বিমানবন্দর, সড়ক অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো চত্বরের নামকরণের দাবিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২.৩০ মিনিটে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসকের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন মহানগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা শহীদ পাইলট তৌকির ইসলামের পিতা মো. তোহরুল ইসলাম এবং মামা মোহাম্মদ আলী।
স্মারকলিপিতে শহীদ এই বিমানসেনার আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম ১৯৯৭ সালের ৯ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই মেধাবী তৌকির পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে অ্যারোনটিক্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগদান করে সফল প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৯ সালে (জিডিপি) শাখায় কমিশন লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৫ ও ৩৫ স্কোয়াড্রনে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কোর্সে কৃতিত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতা সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রশংসিত ছিল।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তৌকির ইসলাম। পরবর্তীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ), ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে দেশের সেবায় আত্মোৎসর্গ করা এই তরুণ বিমানসেনার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, সহকর্মী এবং সমগ্র জাতির মধ্যে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই বীর সেনা কর্মকর্তার স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে রাজশাহী বিমানবন্দর, সড়ক বা চত্বরের নামকরণ করা হলে তা শুধু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই হবে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাঁর আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে এ দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।