এম ইসলাম দিলদার, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় দুই নেতা মো. শফিকুল ইসলাম শফি ও আব্দুল লতিফ। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।
প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা দুই নেতা হলেন বাঘা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ঐতিহাসিক বাঘা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফি এবং বাঘা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ।
স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। এসব প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন তাঁরা। এদিকে, তাঁদের প্রার্থিতার আগ্রহ ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম শফি সাংবাদিক এম ইসলাম দিলদারকে বলেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের কঠিন সময়ে তাঁর বড় ভাই সালেহ আহমেদ সালাম, মো. শহিদুল ইসলামসহ তিনি নিজেও একাধিক মামলা-মোকদ্দমার কারণে দিনের পর দিন বাড়িছাড়া ছিলেন এবং কারাবরণ করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁরা রাজপথে থেকে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
শফিকুল ইসলাম শফি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাণের রাজনৈতিক দল বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং চারঘাট-বাঘার জননেতা সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দোয়া-সমর্থন পাই, তাহলে আমি বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই। জনগণের পাশে থেকে তাঁদের সেবা করাই আমার লক্ষ্য।’
অন্যদিকে, বাঘা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন মামলার কারণে তাঁকে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ে তিনি এক বছর কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দি ছিলেন। দলের দুঃসময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্যাগের মূল্যায়ন করে বিএনপি আমাকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবে। আমি বাঘা উপজেলাবাসীর দোয়া ও সমর্থন চাই। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয়, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের পাশাপাশি দুই নেতার প্রচারণা তাঁদের সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে সামনে এনেছে। তবে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রচারণা চালালেও তাঁদের কেউই এখনো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নন। বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অনেকে। ফলে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এবং কারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনসংক্রান্ত পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।
