আসগর আলী সাগরঃ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সার্ধশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই সদস্যদের জন্য ৩ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে এই ফি নিয়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে।
সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকের মতে, তিন হাজার টাকা শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি হলেও পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজশাহীতে দুই দিন অবস্থান, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া মিলিয়ে একটি পরিবারের মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি। ফলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন—এমন অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সার্ধশতবর্ষের আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।
সম্প্রতি প্রায় ৫০০ সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশেরই ঐতিহাসিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টি অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনও সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের মাসিক বেতনের একটি বড় অংশই চলে যেতে পারে শুধু দুই দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।
জানা গেছে, বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার টাকা।
সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মনে করছেন, রেজিস্ট্রেশন ফি তুলনামূলকভাবে কম রাখা হলে রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের আরও বেশি সংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। তাদের মতে, সার্ধশতবর্ষের মতো ঐতিহাসিক আয়োজনে অর্থের সামর্থ্যের চেয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
একজন সাবেক শিক্ষার্থীর ভাষায়, “রাজশাহী কলেজের ১৫০ বছর পূর্তি জীবনে একবারই আসে। এই অনুষ্ঠানে নিজের কলেজের পুরোনো বন্ধু, শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা সবারই আছে। কিন্তু তিন হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি এবং পরিবার নিয়ে আসার পর বাড়তি খরচ অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো না হলে বিপুলসংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এতে রাজশাহী কলেজের দেড়শ বছরের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সেই সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের বাইরে থেকে যেতে পারেন।
তাদের দাবি, সার্ধশতবর্ষ উদযাপন যেন শুধু বর্তমান ও সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান না হয়ে রাজশাহী কলেজের সব প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এজন্য আর্থিকভাবে সীমিত সামর্থ্যের সাবেক শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রেজিস্ট্রেশন ফি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রাজশাহী কলেজের ১৫০ বছরের গৌরবময় পথচলার এই আয়োজনকে ঘিরে তাই সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—অর্থের বাধা পেরিয়ে যেন কলেজের অতীত ও বর্তমানের সব প্রজন্ম একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
