ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে বাঘা উপজেলা প্রশাসনের অভিযান

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নওটিকা এলাকায় তিন ফসলি কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নওটিকা মৌজার একাধিক স্থানে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

 

তবে প্রশাসনের গাড়ি দূর থেকে দেখতে পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট সদস্য এবং এস্কেভেটর (ভেকু) চালকেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে হাতেনাতে আটক কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

 

অবৈধ খননকাজ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন ঘটনাস্থলে থাকা একটি বিশালাকৃতির এস্কেভেটর (ভেকু মেশিন) অকেজো করে দেয় এবং এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, “আইন অমান্য করে যারা কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও অবৈধ খনন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

এদিকে উপজেলার কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নওটিকা এলাকার স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

স্থানীয়দের মতে, তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *