
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘায় শাহদৌলা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানানো হয় এবং প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিতদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু,সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর বিএনপি সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস. এম. সালাহউদ্দিন আহম্মেদ শামীম সরকার,সাবেক উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সালেহ আহাম্মেদ সালাম, মুখলেসুর রহমান মুকুল,সাবেক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি,উপজেলা মহিলা নেত্রী মোসাঃ সেলিনা আক্তার শাপলা সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধান অতিথির কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল কলেজের বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল স্থাপন, একটি আধুনিক কলেজ ক্যান্টিন নির্মাণ, খেলার মাঠ সংস্কার এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন মানেই একটি এলাকার ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। শাহদৌলা সরকারি কলেজের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। বিশেষ করে কলেজের আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ এবং খেলার মাঠ সংস্কারের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বহুতল ভবন, ক্যান্টিনসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমি সবসময় এই কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ফুল ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
