বাঘায় সরিষা ফুলে হলুদ মাঠ, কৃষকের মুখে হাঁসি

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। এ বছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাঁদের মুখে আনন্দের হাসি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলার সমতল এলাকার বাইরেও বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে এ বছর ব্যাপক পরিমাণ সরিষার উৎপাদন হয়েছে। প্রকৃতি প্রেমিরা অনেকেই সাজগোজ করে সরিষা ক্ষেতে ছবি তুলছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর অধিক লাভের আশায় অধিকাংশ কৃষক সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সামান্য পরিচর্যা আর স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন অনেকে। এর ফলে প্রায় অধিকাংশ মাঠে এবার সরিষার হলুদ ফুল ও সবুজ সমারহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষকরা আশায় বুক বাধছেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গত বারের চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে। কৃষকরা জানান, অগ্রহায়ণে শুরু হয় সরিষা চাষ এবং পৌষ-মাঘ মাসে ফসলি জমি গুলোয় দেখা যায় শুধু হলুদ আর হলুদ ফুলে পরিপুর্ণ মাঠ। এই হলুদ ফুল দেখে ছবি তুলতে ছুটে আসেন অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমি’রা, অনেকেই আবার এই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করে রাখছে আপনজনের সাথে।
বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এই আবাদে সেচ,সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার মতে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার লাভ হবে। তিনি বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করেন না। এটির গাছ গুড়া করে গো খাদ্য-সহ জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। অনুরুপ কথা বলেন, সমতল এলাকার আমোদপুর গ্রামের কৃষক মহাসিন আলী। তিনি জানান, গত বছর সরিষার চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নামায় অনেকেই লাভ করতে পারেননি। কিন্তু এবার সেই ক্ষতি পুষে যাবে। এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবার বন্যার কারনে পলি জমে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ব্যাপক হারে সরিষার চাষ করা হয়েছে। বারি-১৪-১৮ এবং টরি-৭ সোনালী সরিষা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়েছেন। আমরা আশা করছি, এ বছর সারাদেশের হিসাব অন্তে কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশা-পাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও সরিষা বিশেষ ভূমিকা রাখবে । উপজেলার সমতল এলাকার চেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর অত্র উপজেলায় ১ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। যা গত বছর আবাদ করা হয়েছিল মাত্র ৮০০ হেক্টর জমিতে। সেই বার আবহাওয়া অনুকুল না থাকায় হেক্টরে প্রতি সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো ০.৯ মেঃ টন। তবে এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা গত বারের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।