
মোঃ সাইফুল ইসলাম,বাগমারাঃ রাজশাহীর
বাগমারা উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী জনসভায় ও ভোটের মাঠে সভা-সমাবেশ ও জনসমাগমের দিক থেকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
এর আগে আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এলাকায় ডিএম জিয়ার একটি শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ান এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। ইসলামি জালসা, হরিবাসর, মসজিদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে তাঁর আর্থিক সহায়তা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বেশি ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। অধিকাংশ অনুষ্ঠানেই তাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অসুস্থতা ও পরবর্তীতে তাঁর ইন্তেকালের পর প্রতিটি ইউনিয়নে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন ডিএম জিয়া। এতে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব দোয়া মাহফিলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বাগমারার সবচেয়ে বড় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় হামিরকুৎসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এই জনসভাকে নির্বাচনী মাঠে একটি বড় শক্তিমত্তার প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অপরদিকে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার ইউনিয়ন ভিত্তিক সভা করলেও ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মসূচিতে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন। ডিএম জিয়ার বিশাল জনসভার কিছুদিন পর আব্দুল বারী সরদার হাটগাঙ্গোপাড়া হাইস্কুল মাঠে একটি সমাবেশ করলেও সেখানে লোকসমাগম তুলনামূলক কম ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
তবে আব্দুল বারী সরদার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, হাজী সমাবেশ ও ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্বের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এটি তাঁর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এদিকে ডিএম জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হলে তিনি তার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন। এসব কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচার-প্রচারণায় তেমন সক্রিয় নন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী–বাগমারা আসনে এবারের নির্বাচন মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। আগের নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামির ভোট প্রায় ৪০ হাজার এবং বিএনপির ভোট এক লক্ষাধিক। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের ভোট কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে থাকার পক্ষে নয় এবং আগামী রাজনীতিতে মধ্যমপন্থীদের নিরাপদ মনে করছে।
সার্বিকভাবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অভিমত।