
অতীতে এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলাজনিত বিচ্যুতি ও সহিংসতার রেকর্ড আছে। ভোটগ্রহণের দিন এসব কেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে সে বিষয়ে তৎপর রয়েছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রশাসন।
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৩৯টি। মোট ভোটার ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬১ জন। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। আসনগুলোতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৫০৪টি।
রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৫৬৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রেগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৩০৭টি আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব কেন্দ্রের ঝুঁকি কমাতে সংসদীয় আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৯২ হাজার ১১৮ জন। এসব ভোটার জেলার ৭৭৮টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৪৭৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে মোট ভোটার ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন। কেন্দ্র ৫১৫টি, এর মধ্যে ৩৪২টিই ঝুঁকিপূর্ণ।
নাটোরে ৪টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। এসব ভোটার ৫৬৬টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ১৪৬ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলার ৬টি আসনে ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৮২টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বগুড়ার ৭টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। ৯৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০০টি কেন্দ্রেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৪৮২টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র।
সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার। জেলায় ভোটকেন্দ্র ৯২৩টি। এর মধ্যে ২৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। বাকি ৪৬১টি সাধারণ কেন্দ্র।
পাবনার ৫টি আসনে ভোটার ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪১ জন। মোট কেন্দ্র ৭০২টি। এর মধ্যে ৩৪৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলার ২ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৬ জন। জেলায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৫৫টি। এর মধ্যে ১০০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. শাহজাহান বলেন, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় পুলিশের মোট জনবল ১১ হাজারের কিছু বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।
তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোর ধরন, পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করার কাজটি চলমান থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ বাহিনী।
রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, কেন্দ্রগুলোর অতীত রেকর্ড, চলমান প্রবণতা ও দুর্গমতা ইত্যাদি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসন কেন্দ্রসমূহের ঝুঁকি নিরূপণ করে। ঝুঁকি যথাসম্ভব কমিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।
তিনি আরও জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।