গাণিতিক হিসাব করে ছবি আঁকেন রাবি শিক্ষার্থী মিথুন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাবি:কখনো শুনেছেন গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে ছবি আঁকার কথা? না শোনারই কথা। কারণ ছবি আঁকা হয় রং তুলি দিয়ে। বিভিন্ন রং ব্যবহার করে রং তুলির সাহায্যে ক্যানভাস বা আর্ট পেপারে ছবি আঁকেন শিল্পীরা। কিন্তু অনেকে বিশ্বাস না করলেও সত্য যে, গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করেও ছবি আঁকা সম্ভব। আর এই অবিশ্বাস্য কাজটি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মিথুন দে। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

দুঃসাধ্য এই কাজটি পুরো পৃথিবীতে করতে পারেন হাতে গোনা কয়েকজন। বাংলাদেশে যাদের সংখ্যা ২ থেকে ৩ হবে। অত্যন্ত শ্রম আর ধৈর্যের কাজ এটি। তাই অনেকের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ধৈর্যহীনতার কারণে ঝড়ে পরেন। কিন্তু মিথুন দে অত্যন্ত সূচারুভাবে দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তার নিপুণ হাতে এই কাজটি করতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক থেকে এমন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম থেকেই আঁকতেন স্কেচ। তবে এখন গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে যেকোনো স্কেচ আঁকতে পারেন তিনি। পারদর্শিতা রয়েছে ডিজিটাল আর্টেও। বাজাতে পারেন বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র।

২০২০ সালের মার্চে যখন বন্ধ হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবন্দি হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা সেই অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশনকে কাজে লাগিয়ে আঁকতে পারেন যেকোনো ধরনের স্কেচ। করোনাকালে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সময় কাটতো ফেসবুকে। মিঠুনও ব্যতিক্রম নয়। অন্য আট দশজনের মতো তিনিও অধিকাংশ সময় ব্যয় করতেন ফেসবুকে। ফেসবুকের টাইমলাইন স্ক্রল করতে করতে একদিন চোখে পড়ে গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে আঁকা একটি স্কেচ। বিষয়টি মনে দাগ কাটে তার। আগ্রহ জাগে এরকম স্কেচ আঁকার। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করেন ঘাঁটাঘাঁটি। কিন্তু ঘাটাঘাটি করে সফল হননি মিঠুন। এ সম্পর্কিত বিশেষ কোন তথ্য তিনি অনলাইনে পাননি। শুধু জানতে পারেন ডেমস অ্যাপ ব্যবহার করে এরকম চিত্র আঁকা যায়। সেই থেকে শুরু।

এমন ব্যতিক্রমী কাজের শুরুটা করোনার ক্রান্তিকালে। তবে এই আর্ট শেখা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য স্বীকার করতে হয় অনেক সময় ত্যাগ করতে হয় । সারাদিন ডুবে থাকতে হয় এর পেছনে। এই আর্ট শুরু সম্পর্কে মিঠুন বলেন, প্রায় দুই বছর আগে করোনা মহামারির কারণে যখন আমাদের পুরো পৃথিবী থমকে যায় সেই সময়ে এই আর্টের প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে। সারাক্ষণ তখন বাসায় অলস সময় কাটতো। সারাদিন ডুবে থাকতাম ফেসবুকে। একদিন ফেসবুকেই প্রথম এই ধরনর আর্ট দেখি। পরে ইন্টারনেটে ব্যাপক ঘাটাঘাটি করি কিন্তু তেমন কিছু পাইনি। পরে জানতে পারি ডেমস অ্যাপ ব্যবহার করে এগুলো করা হয়। অনেক সাধনার পর আমি এই আর্টে সফল হয়েছি।

মিঠুন আরও বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী শিল্প। তাই এই ধরনের আর্ট খুব কম মানুষ করে। ফলে ইউটিউবে তেমন কোনো টিউটোরিয়াল পাইনি। তাই শুরুর পথটা আমার জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। অনেক ঘাটাঘাটি করে অর্ধবছর ধরে ডেসমস অ্যাপসটি ব্যবহার করি। পরে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার পর শুধু একটি সরলরেখা ব্যবহার করে স্কেচ আঁকি। পরে ওই আর্টটি ফেসবুকে পোস্ট করি। সেই স্কেচটি ব্যাপক সাড়া ফেলে আমার ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে। তারা আমাকে উৎসাহ যোগায়। তারপর থেকেই সব ধরনের ইকুয়েশন ব্যবহার করে ছবি/পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করি।

মিথুনের এই ব্যতিক্রমী দক্ষতার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হোসাইন বলেন, আমি তার স্কেচগুলো দেখে অভিভূত হয়েছি। ম্যাথমেটিক্সের ইকুয়েশনকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো স্কেচ আঁকা সত্যিই দূরূহ একটি কাজ। পৃথিবীতে এধরনের কাজ খুব অল্প সংখ্যক মানুষ করে থাকে। আমার জানা মতে মিথুন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি যে এই কাজটা করে। আমি তার সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে