0

রাজশাহীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ‘চিড়েচ্যাপ্টা’ ব্যাচেলররা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি হোক কিংবা লেখাপড়া- যে কোনো প্রয়োজনেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষকে আসতে হয় রাজশাহীতে । পরিবারের কাছ থেকে দূরে এসে তাদের অধিকাংশেরই অস্থায়ী আবাস হয় রাজশাহীর বিভিন্ন মেস। একসঙ্গে অনেকে থাকার ফলে খরচ কিছুটা কম হওয়ায় এসব ব্যাচেলর মেসে থাকেন। সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মেসে থাকা প্রত্যেকের খাবারের খরচ যেমন বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে সিট ভাড়া (থাকার খরচ)। এই শহরে বসবাস করতে রীতিমতো চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা ব্যাচেলরদের।

রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবে পড়াশোনা শেষ করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর চাকরির খোঁজে তাকে এখনো রাজশাহীতে থাকতে হচ্ছে। পড়াশোনার সময় নিজের খরচ বাবদ প্রতিমাসে পরিবারের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা নিতেন ফরিদা। কিন্তু বর্তমানে পরিবার খরচ দিতে অনেকটা অপারগ। জীবনযাত্রার ব্যয়ে এখন বড় কামড় বসিয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এতে ফরিদার জন্য চাকরির আশায় রাজশাহীতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্যের কারণে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। হুট করে হোস্টেলের সিট-রেন্ট (মাসিক ভাড়া) দেড় হাজার টাকা বেড়ে গেছে। প্রতি মাসে খাওয়ার খরচ বেড়েছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এখানে মেসে থেকে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি।

মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে মেস বা হোস্টেলে খাবার খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে নিত্যব্যবহার্য অন্যান্য সব সামগ্রীর দামও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে যাতায়াত খরচ। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই অনেকেই বাড়তি খাবার, পোশাক, বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করছেন।

রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এর ছাত্র গোলাম রাব্বানী তিনি বলেন দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতির কারনে ‘গরুর মাংস খাওয়া বাদই দিয়েছি আমরা’

ছাত্র, রাজশাহী কলেজ

শুধু গোলাম রাব্বানী নন, দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতিতে অধিকাংশ ব্যাচেলরের জীবন এমন কঠিন হয়ে উঠেছে। মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে প্রতিটি মেস বা হোস্টেলে খাবার খরচ বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি নিত্যব্যবহার্য অন্য সব সামগ্রীর দামও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে যাতায়াত খরচও। এ অবস্থায় চাকরি বা পড়াশোনার জন্য পরিবারের কাছ থেকে দূরে এসে টিকতে পারছেন না অনেকে। যারা থাকছেন তারা খুব অল্প অর্থ দিয়ে পুরো মাস পার করছেন। বাধ্য হয়েই তারা বাড়তি খাবার, পোশাক, বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করছেন।

রাজশাহীতে খরচ কতটা বেড়েছে
জাদুঘর মোড় এলাকায় ফাতেমা ভিলার ২য় তলার একটি ফ্ল্যাটে ১২ জন শিক্ষার্থী মিলে মেস করে থাকেন। সেখানে থাকা মুকতার হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এ বছর জানুয়ারিতে তাদের মেসের মিল রেট (প্রতি বেলার খাবারের দাম) ছিল ৪৫ টাকা। এখন প্রতি বেলার খাবারের দাম ৫৫ টাকা ।

তিনি জানান, তাদের মেসে নিত্যব্যবহার্য সব পণ্য (সাবান, শ্যাম্পু, পেস্ট, ডিটারজেন্ট, কয়েক ধরনের ক্লিনার ও অন্যান্য) একসঙ্গে টাকা উঠিয়ে কেনা হয়। এসব বাবদ আগে জনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দিতে হতো। তবে গতমাসে এসব কিনতে জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৭২৭ টাকা।

রাজশাহী সিটি কলেজ এর ছাত্রী ফাতেমা খরচের ধাক্কা সামলাতে না পেরে  তার মতো অনেকে রাজশাহী ছাড়ছেন অনেকে!

রাজশাহী পদ্মা গার্ডেন এলাকায় একটি মেসে থাকেন শিক্ষার্থী আব্দুল বারী তিনি বলেন, সীমিত টাকায় এ শহরে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠেছে। আগে মাঝেমধ্যে পোশাক-আশাক কিনতাম, সেটা এখন আর হয়ে ওঠে না। আড্ডার জন্য এখানে-ওখানে যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া বাইরেও বের হচ্ছি না এখন।

ছোটখাটো একটি চাকরি করে রাজশাহীতে একটি মেসে থাকেন হিমেল। তিনি বলেন, কয়েকমাস আগে বেতনের টাকা বাড়তি থাকতো। সেটা পরিবারকে পাঠাতাম। এখন দিতে পারছি না। উল্টো প্রতি মাসে কলিগদের কাছ থেকে ধারদেনা করছি।
স/কামরুল হাসান

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে