রাজশাহীতে সাবেক পুলিশ সদস্যর উপর সন্ত্রাসী হামলা,প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন সাবেক পুলিশ সদস্যসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। হামলাকারীরা এসময় তাদের বিভিন্নভাবে জখম ও প্রাণনাশের চেষ্টা করায় এর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল পূবালী মার্কেটের দোতলায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর আহত সাবেক পুলিশ সদস্য সাদরুল হোসেনের বড় ছেলে মাজাহারুল ইসলাম জুয়েল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পবা থানাধীন সবসার গ্রামের সাঁকোপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে রাজনৈতিক পূর্ব শত্রæতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা মসজিদে আমাদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রতিপক্ষরা হলেন, পবা উপজেলার সবসার গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে সুলতান আলী (৫০) ও আলম (৫৫), মৃত আয়জুদ্দিনের ছেলে কাওসার আলী (৫৫), মৃত আরমান আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৫০), মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে লতিফ ও মোমিন, মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে কামরুল (৩৮), মৃত জসিমের ছেলে সবুজ, আলম, রিপন।

জুয়েল বলেন, মসজিদ প্রাঙ্গনে গত ১৫ এপ্রিল’র জের ধরে ২২ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক দেড় ঘটিকায় সাঁকোপাড়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজরত অবস্থায় আমাকে উদ্দেশ্যে করে পূনরায় রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়। নামাজ শেষে আমি বাড়ি যাওয়ার পথে এনামুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছামাত্রই প্রতিপক্ষ আমার পথ রোধ করে অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ করে। এর কারণ জানতে চাওয়ায় তারা এলোপাথাড়িভাবে আমাকে কিলঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করলে আমি বাড়িতে চলে আসি।

সেইদিনই পরে আনুমানিক দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে আমার পিতা সাবেক পুলিশ সদস্য সাদরুল হোসেন মসজিদ থেকে বাড়িতে আসার সময় সাঁকোপাড়া মোড়ে পথ রোধ করে ধারালো চাপ্পড় দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম চোখে ও কপালে সজোরে আঘাত করে এবং অন্যান্য বিবাদিরা তাদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি, রড, হাতুড়ি, বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন জায়গার জখম করে। বাবার চিৎকারে চাচা রেজাউল করিম (৪৮) উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও সজোরে আঘাত করে জখম করে।

আহত অবস্থায় স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপালের ৮নং ওয়ার্ডে আমার পিতা ও ৩১নং ওয়ার্ডে আমার চাচাকে ভর্তি করেন। পরে ঐ দিন রাতে পবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানায় তারা।

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, মামলাও গ্রহন করা হবে। আসামীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে