শান্ত খান ঢাকা জেলা প্রতিনিধিঃ ২০জন লোককে মেকানিক পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে এক কোটি ৮০ লাখটাকা হাতিয়ে নেয় মেকানিক ফয়সাল আহমেদ। এছাড়া সরকারী সম্পদ নয়ছয়ের অভিযোগে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ফয়সালের বিরুদ্ধে।
অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়োগ বানিজ্য ও ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাভারে
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সরকারি নিয়ম-নীতির বালাই নেই এ
অফিসে। গরিবের নলকুপ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিচ্ছে অন্যত্র। ওই দপ্তরে
নিয়মিত চলছে লুটপাটের রামরাজত্ব। মূলকথা এই অফিস চলে প্রধান
মেকানিক ফয়সার আহমেদের নিয়ন্ত্রনে।
সম্প্রতি ২০জন লোককে মেকানিক পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে এক কোটি
৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, নলকুপ স্থাপনের নামে ১০/১৫হাজার টাকা করে
নেয়া, নলকুপের গভীরতা বেশী দেখানোসহ সরকারী সম্পদ নয়ছয়ের
অভিযোগ উঠে মেকানিক ফয়সালের বিরুদ্ধে।
নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা নিতেন সোনালী ব্যাংকের নিজের একাউন্টে।
মোতাহার হোসেন নামে এক ভূক্তভোগী স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও
সমবায় মন্ত্রনালয় বরাবর ফয়সালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে টনক
নড়ে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো: কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে
সাভারে কর্মরত মেকানিক ফসাল আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও
সরকারী সম্পদ নয়ছয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের
নির্দেশ প্রদান করেন।
পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: সাইফুর রহমান
স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ফয়সালের বিরুদ্ধে দুই সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করেন।
কমিটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্সেনিক ব্যবস্থাপনা
বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হুমায়ুন কবীরকে আহবায়ক ও ভান্ডার
বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রেজ্জাককে সদস্য করা হয়।
তবে এতো তদন্তের পরও রহস্যজনক কারনে এখনও ফয়সাল রয়েছে বহাল তবিয়তে।
গড়ে তুলেছেন তিন সদস্যের দালাল চক্রের একটি সিন্ডিকেট।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার মো: শহিদুল হাসান
অভিযোগ করে বলেন, সাভার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের মেকানিক
ফয়সালের কাছে জিম্মি এই অফিস।ফয়সালের কথামতো ঠিকাদারদের সাইট লিষ্ট না দিয়ে নানান তালবাহানা করে। যেখানে একটি টিউবয়েলের বোরিং ৪৩০ফিট সেখানে সে ২৫০অথবা ৩০০ফিটের বিল দেয়।সাধারণ মানুষের নামে বরাদ্ধকৃত টিউবওয়েল স্থাপন না করে অফিসেরলোকজন বোরিংয়ের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা ও পাইপ স্যানেটারী দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নলকূপ পাশ হলে গোপনে অন্যত্র ৩০/৪০ হাজার টাকায় বিক্রিও করে দেয় সে।
প্রকৃতপক্ষে পুরো প্রকল্প সঠিক তদারকি ও নজরদারীর অভাবে এবং মেকানিক
ফয়সার আহমেদের একক কর্তৃত্বে পরিচালিত হওয়ায় সরকারের জনবান্ধব এই
প্রকল্পে সাভার উপজেলায় সুফল মিলছে না। জনগন সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন।
হরিলুট হচ্ছে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাভার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান
মেকানিক ফয়সাল আহমেদ বলেন,তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা
তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের সহকারী
প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে
মেকানিক ফয়সালের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দূর্নীতির যে
অভিযোগ উঠেছে তদন্ত কমিটি তথ্য নিয়ে গেছে। এর বেশি কিছু আর
জানি না, বলেন তিনি।