সংঘর্ষে ‘তৃতীয় পক্ষের’ ইন্ধন দেখছে ডিবি

0

ডেস্ক নিউজ ঃ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন আছে বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

কলেজছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মীমাংসায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বুধবার গভীর রাতে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান তিনি।সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে বৈঠক হয়। ব্রিফিংও হয় সেখানে।

এর আগে সংঘর্ষ বন্ধে চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। এটি ভোররাত ৪টা পর্যন্ত চলে।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের প্রতিনিধি, দোকান মালিক সমিতির নিউ মার্কেট এলাকার প্রতিনিধি, সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, ঢাকা কলেজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলমের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত করব, যেখানে আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।

‘ঘটনার তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যেই চলে এসেছে, যে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা প্রকৃত দোষীকে খুজে বের করব। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, শেষ পর্যায়ে এসে ঘটনা ছাত্র ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তৃতীয় কোনো পক্ষ জল ঘোলা করার জন্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। এগুলো আমাদের নজরে এসেছে।’

তৃতীয় পক্ষ কারা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় পক্ষ হলো স্বার্থন্বেষী মহল। সেটা আমরা আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করব। ভিডিও ফুটেজে আমরা অনেকে ছাত্র দেখছি না। এর মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে। আমরা সময়মতো এগুলো প্রকাশ করব।

‘ফুটপাত ও হকারকেন্দ্রিক যে সকল বিষয় আছে, আরও যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদি চাঁদাবাজির মতো বিষয় থাকে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করেছে কি না জানতে চাইলে মাহবুব আলম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। তাই প্রশাসন মামলা করেছে। আমরা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব, তবে যেহেতু একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে, তাই আমরা যৌক্তিকভাবে চিন্তা করেই ব্যবস্থা নেব।’

ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে কী হবে

ব্রিফিংয়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘আহত ও নিহত সকলের পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদল দেখা করবেন। সেই সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতামূলক অনুদান প্রদান করবেন।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের ওপর যারা আক্রমণ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

মাউশির মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘প্রতিটি মার্কেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচরণগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

ক্রেতা হয়রানি বন্ধে মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত

ব্রিফিংয়ে নেহাল আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ঘোষণা দিয়েছেন, যদি কোনো কর্মচারীর বিষয়ে অভিযোগ থাকে, সে জন্য প্রতিটি মার্কেটে সমিতির নম্বরসহ স্টিকার লাগিয়ে তারা যোগাযোগের ব্যবস্থা করবেন। বিষয়টি ব্যবসায়ী সমিতিকে জানালে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া ক্রেতা হয়রানি বন্ধে তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবেন।’

প্রত্যেক দোকান কর্মচারীর পরিচয়পত্র থাকবে

নেহাল আহমেদ বলেন, ‘বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রত্যেক দোকান কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ডিজিটাল আইডি কার্ড রাখতে হবে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে এ বিষয়টি জরুরি।’

ওই সময় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, সেটা তদন্তের বিষয়। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বারবার বলেছি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে