শ্রীলঙ্কাকে পূর্বে ফিরাতে দায়িত্ব পাওয়া সেই রনিল কে

0

ডেস্ক নিউজ ঃ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় সরকার হটাতে গণবিক্ষোভ চলছে কয়েক মাস ধরে। গণবিক্ষোভের মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে টালমাটাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে।

ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী রনিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে তার দল।

দ্বীপরাষ্ট্রটির পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে, ১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ। রনিল সিলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন।

সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে ইউএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। সেসময় তিনি কেলানিয়া নির্বাচনী এলাকায় প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জুনিয়াস রিচার্ড জয়েবর্ধনের ভাইপো তিনি। জয়াবর্ধনের নতুন সরকার গঠিত হলে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী হন তিনি। এরপর যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসার সরকারে শ্রমমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসাকে হত্যা করা হলে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী ডি বি উইজেতুঙ্গা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। আর উইজেতুঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর পদে স্থলাভিষিক্ত হন রনিল বিক্রমাসিংহে।

১৯৯৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে গামিনী দিশানায়েক হত্যাকাণ্ডের পর ওই বছরের নভেম্বরে রনিলকে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত করা হয়।

২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি দেশটির প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা তাকে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০১৫ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিক্রমাসিংহের দলীয় জোট ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্ট ফর গুড গভর্ন্যান্স ১০৬ আসন লাভ করে। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির ৩৫ সদস্যকে নিজ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের নির্বাচিত হন।

কিন্তু ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে হয় রদবদল। তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা। তার স্থলে তৎকালীন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

তবে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর সিরিসেনা পুনরায় তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ২০ নভেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন এবং মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রী হন।

২০২০ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয়ী হতে পারেননি। তিনি বর্তমানে ইউএনপির কলম্বো জেলার সংসদ সদস্য। ২০২১ সালের ২৩ জুন তিনি শপথ নেন।

বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন বিক্রমাসিংহে। এরপরই জানা যায় তিনিই হচ্ছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট।

২২৫ আসন বিশিষ্ট দেশটির পার্লামেন্টে তার দলের আসন মাত্র একটি।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন এলএলপিপি, প্রধান বিরোধী দল এসজেপির একটি অংশ এবং কয়েকটি দল সংসদে বিক্রমাসিংহের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর জন্য তাদের সমর্থন দিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে