শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাধে সিগারেটের ক্যাম্পেইন করছে জে টি আই

0

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে জাপান বাংলাদেশ টোব্যাকোর কর্মীরা তাদের নতুন সিগারে ক্যামেল এর প্রচারণায় নগরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে বেছে নিয়েছে যা অত্যন্ত বিপদজনক। সরজমিনে আজ ৭ ডিসেম্বর সকাল ১১ টা হইতে রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেল ও রাজশাহী কলেজ ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট এর সামনে,সরকারি সিটি কলেজ এর ভিতর,কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান গেটে ক্যাম্পেই করতে দেখা যায়।তামাক দ্রব্য আইনে যা স্পষ্ট করে বলা আছে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কনো রকম প্রচারণা বা বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।জাপান বাংলাদেশ টোব্যাকোর দুইজন কর্মি মোঃ সাবাব ও মোঃ মহিম রাজশাহী কলেজ ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট এর সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারণা করার সময় তাদের কাছে জানতে চাইলে কনো উত্তর না দিয়ে বীরদর্পে তাদের টিম লিডারকে ডাকে এবং সাংবাদিক এর আইডি কার্ড দেখতে চায়।এর মাঝেই দ্রুত গতিতে টিমলিডার সন্জয় কুমার ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং রাজশাহীর লোকাল ছেলে বলে নিজেক দ্বাবি করে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিম লিডার সন্জয় কুমার বলেন’এটা জাতীয় পর্যায়ে অনুমতি নেওয়া,এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও আমাদের টিম কাজ করছে,তাই রাজশাহী কলেজ বা কনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করতে বাধা নেই, আপনারা চাইলে অফিসে কথা বলতে পারেন,আমাদের অফিস অনুমতি নিয়েই আমাদের রুট দিয়েছে,এই শহরে আরো সাংবাদিক আছে তারা কিছু বলেনি আপনি যা পারেন করেন”

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে তামাকজাত কোম্পানিগুলো। সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ছবি দিয়ে নানা রঙের চটকদার স্টিকার, গ্যাস লাইট,সিগারেট রাখার প্লাস্টিকের বক্স উপহার দেওয়ার নামে শিক্ষানগরি রাজশাহির স্কুল-কলেজগুলোর আশপাশের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে দেদারসে প্রচারণা চালাচ্ছে জাপান বাংলাদেশ টোব্যাকোর কর্মিরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬ সালে বাংলাদেশে একটি জরিপ পরিচালনা করে।তাদের জরিপ থেকে বুঝা যায় তামাক কোম্পানিগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের টার্গেট করে তামাক পণ্যের প্রচারণা চালাচ্ছে বলে হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে সিগারেট কোম্পানিগুলো তাদের প্রচারণায় নানা কৌশল অবলম্বন করছে। দোকানের পণ্য মূল্য তালিকার নামে তারা এক ধরনের স্টিকার ও ফেস্টুন ব্যবহার করছে। যেখানে তাদের কোম্পানির নাম ও সিগারেরটের নাম উল্লেখ করা থাকছে।
যেমন নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪৩ দেশে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাধে প্রচারণা চালাচ্ছে জাপান বাংলাদেশ টোব্যাকো।
গত ২০১৮ সালে জাপানের বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সিগারেট নির্মাতা জাপান টোব্যাকো ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশের আকিজ গ্রুপের সিগারেট তৈরির সব ব্যবসা কিনে নিয়েছে।এ বিনিয়োগ এ যাবৎকালের মধ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে একক বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগ। জেটিআই সিইও মিডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সিগারেট বাজার বছরে ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই বিষয়কে লক্ষ্য করেই তারা বাংলাদেশে ১.৪৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে