রাজশাহীর মাঠে মাঠে হলুদের সমাহার

0

আর কে রতনঃ গত বছর ভাল দাম পাওয়ার আর চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রাজশাহীর মাঠে মাঠে হলুদের সমাহার। জেলার ৯টি উপজেলার মাঠের পর মাঠ চাষ হয়েছে সরিষা। এবার কৃষক ও সংশ্লিষ্ট অফিস বাম্পার ফলনের আশা করছেন। দেশের ঋতু পরিক্রমায় হেমন্ত ও শীত ঋতুতে মাঠে মাঠে সরিষার চাষ হয়। রাজশাহীতে সরিষার গাছে গাছে ফুল এসেছে। হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষার মাঠ চোখ জুড়ানো দৃশ্য মন ছুয়ে যাচ্ছে পথচারিদের।

এ জেলায় চলতি মুওসুমে সরিষার আবাদ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এতো পরিমান বেশি পরিমাণ জমিতে অতীতে কখনও সরিষার চাষ হয়নি বলে জাসা গেছে।

রাজশাহী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে এবার সরিষার আবাদ বাড়ানোর নির্দেশনা ছিল সরকারের পক্ষ হতে। ফলে সরিষা চাষ বৃদ্ধিতে একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তৈরি করা হয় নতুন শস্যবিন্যাস। উদ্বুদ্ধ করা হয়েছ চাষিদের। গত মৌসুমে সরিষার ভাল দাম পাওয়ার কারণে সহজেই চাষিরা উদ্বুদ্ধ হন। এ কারণে চলতি মৌসুমে বেড়ে গেছে সরিষার আবাদ।

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, গত মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ২৬ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। চাষাবাদে বিঘাপ্রতি খরচ পড়েছিল ৪ হতে ৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় সরিষার উৎপাদন হয়েছিল ৫ থেকে ৬ মণ। গড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি করে চাষিদের ভাল মুনাফা হয়েছিলো। সরিষার আবাদ বাড়ানোর নির্দেশনা আসার পর এ বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৪০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে ৪২ হাজার হেক্টরেরও বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী জানান, আমন ধান ওঠার পর ইরি বোরো ধান রোপণের আগে জমি অলস পড়ে থাকে। এ সময় সরিষা চাষ করা হয়। ফলে একদিকে যেমন তেলের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাব লাভবান হয়, অন্যদিকে জমিতে জৈব সারের ঘাটতি পূরণে বিরাট ভূমিকা রাখে।

বাগমারা উপজেলার ফুলপুর কৃষক নারায়ন সরকার বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। বেশ ভালো ফুল ধরেছে। আসা করা যায় বাম্পার ফলন হবে।

তিনি বলেন, বীজ বোনার দুই মাসের মধ্যে সরিষার ফসল ঘরে তোলা যায় বলে অন্য আবাদের সমস্যা হয় না। সামান্য ইউরিয়া ছাড়া আর কোনো সারের প্রয়োজন হয় না সরিষায়। চারা গজানোর পর আগাছা পরিষ্কার করা ছাড়া তেমন কোনো শ্রমেরও দরকার হয় না। বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬মণ সরিষার ফলন হয়।

দূর্গাপুর উপজেলা সুখাদিঘি গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, এ বছর বন্যা কম হওয়ায় জমিতে সময় মত চাষ দিয়ে মুওসুমের শুরুতেই দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। সরিষায় ভালো ফুল ধরেছে। আশা করছি ভলো ফলনও হবে।

গোদাগাড়ী উপজেলার আলোছত্র গ্রামের চাষি আনসার আলী বলেন, প্রতিবছরই তিনি ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেন। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে গত বছর ভাল লাভ হওয়ার কারণে এবার রেশি জমিতে চাষ করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) শারমিন সুলতানা জানান, সরিষার আগে ও পরে রাজশাহীতে ধানের আবাদ হয়। সরিষার আবাদ বাড়াতে এবার আমনে স্বল্পমেয়াদী ধান চাষ করানো হয়। তারপর সরিষা চাষ শুরু করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকেও কোন কোন জমিতে ধান ছিল। কোন জমির ধান উঠতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে, এ রকম সময়ও ধানের ভেতর সরিষা বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘রিলে ক্রপিং’ পদ্ধতিতে। এভাবে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এবার আমাদের ওপর নির্দেশনা ছিল সরিষার চাষ বাড়ানোর জন্য। আমরা চাষিদের উদ্বুদ্ধ করেছি। গতবছর চাষিরা সরিষার ভাল দাম পেয়েছেন বলে সহজেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এ কারণ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে