পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক

0

বাগমারাপ্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমের আল জাতের পেঁয়াজের বাজার দর কম হওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রয় বিক্রয় করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। জেলার পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা হিসেবে বাগমারা অন্যতম। এ উপজেলার তাহেরপুরী পেঁয়াজের সমাদর বেশ আগে থেকেই। পেঁয়াজের ফলন ভাল হলেও দাম কম হওয়ায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার দর ভাল না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এদিকে ব্যাবসায়ীরাও দাম কম হওয়ায় কম দামেই বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। অনেক কৃষক জানান, পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে বর্তমানে বিক্রির পর উৎপাদন খরচ মিলছেনা। কয়েক মাসে ক্ষেতে পরিশ্রম করেও কোনো লাভের মুখ দেখছেনা বলে জানিয়েছেন তারা। যথা সময়ে সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও বাজার দর কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসূমে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় দুই হাজার দুইশ দশ হেক্টর জমিতে আল জাতের পেঁয়াজের চাষাবাদ করা হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে দশ হেক্টর বেশি। সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায়। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের মাঝগ্রামের পেঁয়াজ চাষী জামাল উদ্দিন জানান, শ্রমিক, সেচ, সার ও কীটনাশক খরচ বাবদ প্রতি কাঠা জমিতে যে খরচ হয়েছে বিক্রির সময় তার চেয়ে বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছেনা।

বাজার দর কম থাকায় তিন বিঘা জমির উৎপাদন খরচ উঠছেনা বলে তিনি জানিয়েছেন। একই গ্রামের আসমান আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বাজার দর কম থাকায় এখনো প্রায় এক বিঘা জমির পেঁয়াজ খেতেই রয়েছে।

রাঁয়াপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষী আফজাল হোসেন জানান, তিনি এবার দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করে লাভের মুখ দেখতে পাননি। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর গ্রামের আমজাদ হোসেন সরদার জানান, পনের কাঠা জমিতে পেয়াজ চাষ করে উৎপাদন খরচ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০/৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হলেও খরচের তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছেনা।

বাগমারার বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে আড়াইশ থেকে ছয়শ টাকা মণ দরে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, শ্রমিক, ওষুধ ও সার খরচ বাবদ প্রায় ৩৫/৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪০/৬০ মণ উৎপাদন হলেও বাজার দর কম হওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।

এদিকে উপজেলার হামিরকুৎসা, শিকদারী, ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুরসহ বিভিন্ন হাট থেকে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার দর কম থাকায় কম লাভেই তাদের মালামাল পাঠাতে হচ্ছে। কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, মুসা, শহিদ, হামিদসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসা চলমান রাখার জন্য পেঁয়াজ কিনে কম লাভেই পাঠানো হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই তারা ট্রাকযোগে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়াও ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান রাজধানী ঢাকায়, ব্যবসায়ী রফিক নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজ সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন।
বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, রাজশাহী অঞ্চলে এবার পেঁয়াজের উৎপাদন ভাল হয়েছে। উৎপাদন বেশী হবার জন্য বাজার দর হয়তো একটু কমে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে