পুত্রবধূর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা শশুরের

0

ডেস্ক নিউজ ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুক দাবির অভিযোগে পুত্রবধূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন মোঃ জারজিস আলী নামের এক ব্যক্তি।

গত বুধবার(১৪ সেপ্টেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তেররশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জারজিস আলী বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আমলী আদালতে মামলাটি ( মামলা নং- সি.আর-৭৩৩/২০২২ ) দায়ের করেন।

আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হুমায়ন কবীর মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলায় পুত্রবধূ মোসাঃ সায়মা সুলতানা(৩১) সহ মোট ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। সায়মা সুলতানা ধামইরহাট উপজেলার চকযদু গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের মেয়ে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তেররশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জারজিস আলীর পুত্র পুলিশ কর্মকর্তা রুবেল হকের (৩৪) সঙ্গে ধামইরহাট উপজেলার চকযদু গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের মেয়ে সায়মা সুলতানা’র( ৩১) বিয়ে হয়। রুবেল হক বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত। বিয়ের সময় কনেপক্ষ রুবেল হকের কাছে ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তখন তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের সীতাহার, দুইভরি ওজনের সোনার হাত বালা, এক ভরি ওজনের সোনার কানের ঝুমকা ও এক ভরি ওজনের সোনার দুটি আংটি দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় রুবেল হকের স্ত্রী সায়মা সুলতানা অন্যদের প্ররোচনায় জারজিস আলীর ছেলেকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনে তার পুত্রবধূর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে বিয়ের সময় দেওয়া গহনা ও গচ্ছিত নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান সায়মা সুলতানা। পরে রুবেল হক সায়মা সুলতানাসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে জানানো হয়, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য দেখাশোনা চলছে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় ফাঁসিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে পুলিশের চাকুরী খেয়ে সায়মা সুলতানা আর সংসার করবেন না। ছেলের সংসারে এমন পরিস্থিতিতে মীমাংসার চেষ্টা করেন শশুর। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২-ই আগস্ট দুই পরিবার নিয়ে সমঝোতায় বসে নিরুপায় হয়ে পুত্রবধূ সায়মা সুলতানাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা রুবেল হকের বাবা জারজিস আলী।

মামলার বিষয়টি শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জারজিস আলী। এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সায়মা সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল প্রতিবেদককে জানান, যৌতুকের অধিকাংশ মামলা মিথ্যা হয়ে থাকে, এই সংক্রান্ত মামলাতেই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষরা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন । অথচ অনেকের কাছে অজানা এই আইনে শুধু নারীরা নয়, পুরুষের কাছে যৌতুক চাইলে পুরুষও প্রতিকার পেতে পারেন। ২০১৮ সালের যৌতুক আইনের ৩ ধারায় বলা আছে-“যদি বিবাহের কোনো এক পক্ষ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বিবাহের অন্য কোনো পক্ষের নিকট কোনো যৌতুক দাবি করেন, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের অধীন একটি অপরাধ” এই ধারা অনুযায়ী যেকোন পক্ষই এই মামলা দায়ের করার অধিকার আছে । এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী ন্যায় বিচার পাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে