দুই শিক্ষার্থীর দুষ্টুমি: দলবল নিয়ে স্কুলে গিয়ে শিশুকে মারধর বাবার

0

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শরীরে পানি ছিটা দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সুমন ফকির (৩৩) দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে অভিযুক্ত সুমন ফকিরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ২২ নম্বর মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুকুল সরকার বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অভিযুক্ত মো. সুমন ফকির (৩৩) উপজেলার মুলাইদ গ্রামের সাহাব উদ্দিন ফকিরের ছেলে। সুমন ফকিরের ছেলে একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

ভুক্তভোগী পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রের বাবা পেশায় একজন পোশাক কারখানার শ্রমিক। সে বাবার সঙ্গে স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র বলে, ‘সকালে পিটি প্যারেড শেষে আমরা সবাই মিলে হাতমুখ ধুচ্ছিলাম। এ সময় আমি দুষ্টুমি করে একটু পানি ছিটা দেই। এতেই সে কেঁদে কেঁদে বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে নিয়ে আসে। স্কুলের পাশেই তাদের বাড়ি। আমি হাতমুখ ধুয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করার আগেই আমাকে মারধর করা হয়। এরপর স্কুলের শিক্ষকেরা এসে আমাকে রক্ষা করে। আমাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়।’

মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুকুল সরকার বলেন, ‘পিটি প্যারেড শেষে আমি শিক্ষকদের নিয়ে উপবৃত্তির বিষয়ে মিটিং করছিলাম, হঠাৎ করেই অভিযুক্ত সুমন ফকির পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে শার্টের কালার ধরে টেনেহিঁচড়ে মারধর করতে করে অফিস রুমের ভেতর প্রবেশ করে। এ সময় উচ্চস্বরে প্রধান শিক্ষক কই এই বলে ডাক চিৎকার শুরু করে। আমার সামনেও শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এ সময় আমরা রক্ষা করতে গেলে আমাকেও মারধর করতে উদ্যত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুমন ফকিরের বক্তব্য নিতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ‘উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আমাকে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ খবর নিতে বলেছেন। আমি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে